ফটিকছড়িতে কিশোর গ্যাং ও মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে আবু বক্কর ফরিদ: অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের উকিল পাড়া এলাকায় আবু বক্কর ফরিদ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একছত্র কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট। বিগত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই এলাকায় এই অপকর্মের রাজত্ব কায়েম করেছে সে, যার ফলে পুরো এলাকায় চরম অশান্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।অন্ধকার জগতে স্কুলগামী তরুণেরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চননগর ইউনিয়নের নোয়া মিয়া কন্ট্রাক্টরের ছেলে আবু বক্কর ফরিদ এলাকার উঠতি বয়সী এবং স্কুলগামী ছেলেদের টার্গেট করে নিজের গ্যাং-এ ভেড়াচ্ছে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের মাদক। অল্প বয়সী এই ছেলেদের ফুসলিয়ে এবং নানা প্রলোভন দেখিয়ে অন্ধকার জগতের দিকে ঠেলে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে ফরিদ।সহযোগী সিন্ডিকেট ও আড্ডার মূল কেন্দ্রএলাকাবাসীর অভিযোগ, ফরিদের এই গ্যাং পরিচালনায় মাঠ পর্যায়ে প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে জাফরী এবং ইউনুস সওদাগরের ছেলে তারেকসহ আরও কয়েকজন। এদের আড্ডার মূল কেন্দ্র বা অসামাজিক কার্যকলাপের আঁতুড়ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউনিয়নস্থ আয়েশা স্কয়ারের সামনে অবস্থিত 'ছলুর দোকান' এবং উকিল পাড়ার 'মিজানের দোকান'।
জুয়া, সুদ এবং ইভটিজিংয়ের মহোৎসবঅভিযোগে আরও জানা যায়, মিজানের চায়ের দোকানে নিয়মিত বসে ক্যারাম বোর্ডের আড়ালে জুয়ার আসর, যেখানে সরবরাহ করা হয় মাদক। এছাড়া রাতের বেলা রাস্তায় প্রজেক্টর বসিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার নামে চলে বড় অঙ্কের বাজি ধরা। জুয়াড়িদের চড়া সুদে টাকা ধার দেওয়ার ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করে এই ফরিদ। শুধু তাই নয়, স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসা ছুটির সময়ে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত ইভটিজিং ও হেনস্থা করে আসছে।
প্রতিবাদ করলেই নির্যাতন ফরিদের এই সুসংগঠিত অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সাধারণ মানুষ বা কোনো অভিভাবক এসবের প্রতিবাদ করলে ফরিদ নিজে অথবা তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে প্রতিবাদকারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হেনস্থা ও লাঞ্ছিত করে।
বিগত সরকার পতনের পর দেশে এসে ফরিদের এই বেপরোয়া গ্যাং কালচার ও মাদক বাণিজ্যের কারণে কাঞ্চননগরের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
নিউজ ডেস্ক