পবিত্র রমজানের দিনেও থেমে নেই বিএনপির স*ন্ত্রাসী কার্যক্রম।
ঝিনাইদহ সদরে জামায়াতের নারী কর্মীদের ইফতার মাহফিল ও তালিমে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ওহিদুল ইসলামের বাড়িতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম শুরু করে। তালিম শেষে তাদের ওই বাড়িতেই ইফতার মাহফিল করার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিমের খবর পেয়ে বিএনপি নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিম বন্ধ করতে বলে।
বাড়ির মালিক ওহিদুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম করছিল। বিএনপির নেতারা এসে নারীদের গালিগালাজ শুরু করে। আমার প্রতিবেশীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ শুরু করে। বিএনপির লোকজন কয়েকজন বাচ্চাকেও মারধর করে। পরে জামায়াতের পুরুষ কর্মীরা এসব খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিল। এতে বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। খবর পেয়ে জামায়াতের সমর্থকরা সেখানে গেলে বিএনপির সমর্থকরা ৫/৬ জন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে।
তিনি জানান, জেলার প্রতিটি এলাকায় জামায়াতের প্রত্যেকটি প্রোগ্রামে হামলা ও বাধা দিচ্ছে বিএনপির লোকজন। বিগত নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ বসে থাকবে না।
স্থানীয় বেতাই পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, শুক্রবার বাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হয়। মহিলা কর্মীদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক আহত হন।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, জামায়াত-বিএনপির মধ্যে মারামারির খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা প্রশমন ও সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক