চসিকের মেয়াদ শেষ, তবু মেয়র পদে শাহাদাত: আইনি জটিলতায় বন্দরনগরী
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বর্তমান পরিষদের মেয়াদ গত ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও মেয়র পদে বহাল রয়েছেন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। আদালতের রায়ে মেয়র ঘোষিত হওয়া এই নেতার মেয়াদের দাবি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আইনি ব্যাখ্যার মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি তৈরি হয়েছে।
মেয়াদের হিসাব নিয়ে বিতর্ক
ডা. শাহাদাত হোসেনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তিনি শপথ নিয়েছেন এবং সেই হিসেবে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালন করার কথা। তিনি বিষয়টিকে আদালতের আদেশ হিসেবে দেখছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁর এই মেয়াদ রদ করতে হলে আদালতেরই নতুন নির্দেশনা প্রয়োজন।
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী একটি পরিষদের মেয়াদ তার প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি (মতান্তরে ২০২৫-এর একই তারিখ) অতিক্রান্ত হয়েছে। আইন অনুযায়ী, পরিষদ বিলুপ্ত হলে মেয়রের ব্যক্তিগত মেয়াদ আলাদাভাবে টিকে থাকার সুযোগ নেই।
প্রশাসক নিয়োগের তোড়জোড়
বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত মার্চ মাসেই চসিকে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের একটি ফাইল প্রস্তুত করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। সেখানে শাহাদাত হোসেনকেই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে সেই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। মন্ত্রণালয় এখন শাহাদাতের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া আইনি নথিগুলো পর্যালোচনা করছে।
প্রেক্ষাপট
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কারচুপির অভিযোগে ডা. শাহাদাত হোসেনের করা মামলায় গত ১ অক্টোবর আদালত তাঁকে মেয়র ঘোষণা করেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ১৮ আগস্ট সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হলেও আদালতের রায় থাকায় শাহাদাত হোসেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, শাহাদাত হোসেন ওই নির্দিষ্ট পরিষদের জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তাই পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে তাঁর মেয়র পদের মেয়াদও শেষ হওয়া যৌক্তিক।
চসিকের এই প্রশাসনিক শূন্যতা বা মেয়াদের জটিলতা কাটাতে এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নগরবাসী।
নিউজ ডেস্ক