ঢাকা | বঙ্গাব্দ

“চট্টগ্রামের হালিশহরে গ‍্যাস বিষ্ফোরণ; নিহত বেড়ে ৫”

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 25, 2026 ইং
“চট্টগ্রামের হালিশহরে গ‍্যাস বিষ্ফোরণ; নিহত বেড়ে ৫” ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728
চট্টগ্রাম এ গ্যাস বিস্ফোরণ ট্র্যাজেডি 
দগ্ধ ৯, নিহত বেড়ে ৫ — একই পরিবারের ওপর নেমে এলো শোকের ছায়া

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। একই পরিবারের ওপর নেমে আসা এই দুর্ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৪৬ বছর বয়সী মো. সাখাওয়াত হোসেন ও ৩৫ বছর বয়সী আশুরা আক্তার পাখি। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তাদের শরীরের প্রায় শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদ সুমন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সোমবার প্রথমে প্রাণ হারান নুরজাহান আক্তার রানী ও তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি চারজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকে এসি মসজিদ সংলগ্ন ছয়তলা ভবন ‘হালিমা মঞ্জিল’-এর তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জমে ছিল। ভোরে আগুনের সংস্পর্শে আসতেই তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা একই পরিবারের নয়জন সদস্য মুহূর্তেই দগ্ধ হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত ও আহতরা

নিহতরা হলেন—মো. সাখাওয়াত হোসেন, তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী, ছেলে শাওন, ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন এবং সুমনের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি।

দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন পরিবারের শিশু সদস্য উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০), আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাস (৬) এবং সাখাওয়াতের ছোট ভাই শিপন হোসেন।

তদন্ত ও সতর্কতা

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের লিকেজ থেকেই এ বিস্ফোরণের সূত্রপাত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসলাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চুলা ব্যবহারের আগে গ্যাসের গন্ধ পরীক্ষা এবং বাসায় গ্যাস ডিটেক্টর স্থাপন—এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চট্টগ্রামের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও নগরবাসীর সামনে গ্যাস নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইফতারের আগ মুহূর্তে পতেঙ্গায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, শিশুস

ইফতারের আগ মুহূর্তে পতেঙ্গায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, শিশুস